ঢাকা মঙ্গলবার, আগস্ট ২০, ২০১৯

বার্সা ৬-১ পিএসজি, অনেক অজানা কথা জানালেন নেইমার

Spread the love

চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে অন্যতম সেরা কামব্যাক ছিল বার্সালোনা এবং পিএসজির ম্যাচটি। প্রথম লেগে ৪-০ গোলে হেরেছিল বার্সালোনা। এরপর দ্বিতীয় লেগে ৬-১ গোলে জিতেছিল তারা যেখানে নেইমার করেছিল জোড়া গোল।

ম্যাচে দুর্দান্ত খেলেছিলেন নেইমার। কিন্তু সেই ম্যাচের আগেই নেইমার প্রতিজ্ঞা করেছিল দুই গোল করবে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে এই সব কথা।

নেইমার বলেন, “আমার দুই বন্ধু বলেছিল পিএসজি গ্রেট দল এবং তারা সেটা দেখিয়েছে। তারা এরই মধ্যে পরের রাউন্ড নিশ্চিতও করেছে (যেহেতু ৪-০ গোলের জয় ছিল প্রথম লেগে)।”

“কিন্তু আমি বলেছিলাম, তুমি আমার বন্ধু এবং আমার সাথেই কাজ করো। কিন্তু তুমি হয়তো বিশ্বাস করবে না, আমরা এখান থেকেও ম্যাচে ফিরতে পারি। আমরা এই অবস্থা থেকে ঘুড়ে দাড়াব এবং আমি প্রতিজ্ঞা করছি দুই গোল করব।”

আমরা সকালে অনুশীলন করেছিলাম এবং আমি প্রতিটা খেলোয়াড়কে দেখেছিলাম। সবাই আনন্দিত ছিল, কেউ দুশ্চিন্তা করছিল না।”

“আমরা জানতাম আমরা জিতব। কিন্তু পরের রাউন্ডে যাব কিনা সেটা নিশ্চিত ছিল না। কিন্ত জয়ের ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত ছিলাম।”

“যখন ম্যাচ শুরু হল, আমি অন্যরকম ভাবে শুরু করলাম। সবাইকে চ্যালেঞ্জ জানাতে লাগলাম। অন্যান্য সময়ের চেয়ে বেশি দৌড়ালাম। এটা কেবল বড় ম্যাচই ছিল না, আমার জন্য অনেক আবেগের ম্যাচও ছিল।”

“যখন আমরা প্রথম দুই গোল করলাম, তখন আমাদের আর দুটি গোল দরকার ছিল। দল তখন পাল্টে গিয়েছিল। ভক্তরা বিশ্বাস করতে শুরু করল। মাঠে সবাই ক্রমাগত আমাদের উজ্জীবিত করার জন্য চিৎকার করল। আমরা শান্ত থাকলাম এবং মনোযোগ ধরে রাখলাম।”

“যখন আমরা তৃতীয় গোলটি করলাম, এটা ছিল মেসির গোল। আমি পেনাল্টি পেয়েছিলাম এবং সে গোল করেছিল। ভক্তরা তখন আগুন। আমরা তখন ভাবলাম এবার আরও এগিয়ে যাওয়া যায়।”

“কিন্তু তখনই কাভানি গোল করল তখন প্রত্যেকেই অর্ধেক আহত হল। এটা ছিল কঠিন। তখন আমাদের একটা গোল দরকার ছিল। এখন লাগবে তিন গোল। সবাই চিন্তা করেছিল আমরা আর একটা গোল করতে পারি। কিন্তু তখন প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল তিন গোল।”

“আমরা তখন ফের চেষ্টা করতে থাকি আমাদের সাধারণ ফুটবল খেলার জন্য এবং গোল করার জন্য। আমার তখনও বিশ্বাস ছিল আমি দুই গোল করব। আমি আমার দুই বন্ধুর কাছে কথা দিয়েছিলাম।”

“ম্যাচের ৮৮ মিনিটে ফ্রিকিক থেকে গোল করার পর আমরা তখনও ৫-৪ গোলে পিছিয়ে ছিলাম। ওই মুহূর্তে সুয়ারেজ পেনাল্টি পেল। আমি মেসিকে দিতে গেলাম। মেসি বলল, নো তুমি যাও। আমি বললাম-আমি? মেসি বলল- হ্যা, তুমি নেও।”

“এটা ছিল আমার ইতিহাসের সবচেয়ে মনোযোগী পেনাল্টি। এটাতে আমি পূর্ণ মনোযোগ দিয়েছিলাম। কারণ, আমি ভেবেছিলাম, যদি আমি মিস করি তাহলে পুরো স্টেডিয়ামের আশা শেষ হয়ে যাবে।”

“আমি তখন মেসিকে জিজ্ঞাস করেছিলাম, তুমি কেন আমাকে দিলা? সে বলেছিল, তোমাকে বেশি আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছিল ওই মুহূর্তে। তুমি গোল করতে পারবে এটা বিশ্বাস ছিল।”

“এই পেনাল্টি গোলটি আমাদের ৬ষ্ঠ গোলের আত্মবিশ্বাস যুগিয়েছিল।”