ঢাকা বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৯, ২০২০

শুভ জন্মদিন সাকিব আল হাসান

সাকিব আল হাসানের জন্মদিন অন্যান্য সময়ের তুলনায় এবার কাটছে একটু অন্যরকম ভাবেই। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান এখন আছেন নিষেধাজ্ঞার মধ্যে। ক্রিকেট থেকে ১ বছরের জন্য দূরে আছেন সাকিব। তারমধ্যে আবার করোনা ভাইরাসের মারাত্মক ভয়াবহতার কারণে তিনি এখন সময় কাটাচ্ছেন বন্দি অবস্থায কোয়ারেন্টাইনে।

এরমধ্যেই ৩৩ বছরে পা রাখলেন সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ক্রিকেটারের জন্মদিন স্পোর্টস প্রতিদিনের পক্ষ থেকে রইল অনেক অনেক শুভেচ্ছা।

১৯৮৭ সালের ২৪ মার্চ মাগুরা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন সাকিব। বাবা ছিলেন ফুটবলের ভক্ত। তবে বীপরিত ছিল সাকিব আল হাসান। গ্রামাঞ্চলের ক্রিকেট খেলতে গিয়েই তিনি চোখে পড়ে যান এক আম্পায়ারের। সেখান থেকে তাকে নিয়ে আসা হয় মাগুরার ইসলামপুর পাড়া ক্লাবে। সেই ক্লাবের হয়ে খেলতে গিয়ে সাকিব প্রথম ম্যাচেই বাজিমাত করেন। প্রথম বলেই তুলে নিয়েছিলেন উইকেট। প্রকৃত ক্রিকেট জীবনের শুরু সেই বল থেকেই।

খুব দ্রুতই নিজেকে পরিচিত করে তোলেন সাকিব। মাত্র ১৫ বছর বয়সে সুযোগ পান অনুর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে খেলার। এছাড়া জাতীয় লিগে খেলার জন্য তালিকাভূক্ত হন খুলনা বিভাগীয় দলে।

এভাবেই একটা সময় ২০০৬ সালে জাতীয় দলে ডাক পান সাকিব। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওই সিরিজে সাকিবের সঙ্গে অভিষেক হয় মুশফিক ও ফরহাদ রেজার।

২০০৯ সালে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ওয়ানডে অলরাউন্ডার র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে উঠে আসেন সাকিব। এই ধারাবাহিকতায় টেস্টেও নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করে সেরা অলরাউন্ডারের আসন দখল করেন তিনি। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে তিন ফরম্যাটেই সেরা অলরাউন্ডার হন তিনি। যা ক্রিকেট বিশ্বে একমাত্র ঘটনা।

নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে চলা সাকিব গত বছরের অক্টোবেরর শেষে বড় এক ধাক্কা খেলেন। জুয়াড়িদের প্রস্তাব আকসুকে না জানানোর কারণে সাকিব আল হাসানকে সবধরনের ক্রিকেট থেকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। যদিও নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার সময়ই এক বছর স্থগিতের কথা জানিয়ে দেয়া হয় আইসিসির পক্ষ থেকে। চলতি বছরের ২৯ অক্টোবর থেকে আবারও মাঠে ফিরতে পারবেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।

এখন পর্যন্ত ৫৬ টেস্ট ১০৫ ইনিংসে ব্যাট করে সাকিব ৩৯.৪০ গড়ে করেছেন ৩৮৬২ রান। রয়েছে পাঁচটি সেঞ্চুরি ও ২৪টি হাফ সেঞ্চুরি। সাদা পোশাকে তার সর্বোচ্চ ইনিংস ২১৭ রানের। ৯৫ ইনিংসে বল করে পেয়েছেন ২১০টি উইকেট।

ওয়ানডেতে ২০৬ ম্যাচে ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছেন ১৯৪ বার। ৩৭.৮৬ গড়ে করেছেন ৬৩২৩ রান। রয়েছে ৯টি সেঞ্চুরি ও ৪৭টি হাফসেঞ্চুরি। এক ম্যাচে তার সেরা ১৩৪ (অপরাজিত)। আর ২০৩ ইনিংসে বল করে নিয়েছেন ২৬০ উইকেট।

৭৬টি টি-টোয়েন্টিতে ১২৩.৭৭ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ১৫৬৭ রান। রয়েছে ৯টি হাফসেঞ্চুরি। আর ৭৫ ইনিংসে বল ঘুরিয়ে নিয়েছেন ৯২ উইকেট।