ঢাকা সোমবার, অক্টোবর ১৪, ২০১৯

মেসি-দিবালা মিলেই ইকুয়েডর বধের পরিকল্পনা

Spread the love

পেরুর বিপক্ষে জিতলে এতটা টেনশনে থাকতে হত না আর্জেন্টিনাকে। কারন অন্য ম্যাচে কলম্বিয়া হেরে যাওয়ায় সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট প্রায় পেয়েই যেত আর্জেন্টিনা। কিন্তু তা হবে কেন ? প্রতিপক্ষের গোলের মুখ খোলতে ভুরে যাওয়া আর্জেন্টিনা এই ম্যাচেও পারেনি গোল করতে। ফলাফল এখন  ইকুয়েডরের ম্যাচের দিকে তাকিয়ে আছে তারা।

তাও কি শুধু ইকুয়েডরের ম্যাচের দিকে তাকিয়ে থাকা! সেই সাথে পেরু-কলম্বিয়া ম্যাচের দিকেও তাকিয়ে আছে তারা। কারন আর্জেন্টিনার এবারের প্রতিপক্ষ ইকুয়েডর যারা আর্জেন্টিনাকে তাদেরই মাটিতে ২-০ গোলে হারিয়েছিল বাছাই পর্বের শুরুতেই। আর এবারের ম্যাচটি ইকুয়েডরের নিজের মাটিতে যেখানে ২০০১ সালের পর আর জয় পায়নি আর্জেন্টিনা।

পেরুর বিপক্ষে ম্যাচে একাদশে জায়গা হয়নি দিবালার। কারন মেসির সাথে তার খেলার ধরন। দুজনের পজিশন একই থাকায় মেসির সাথে খেলতে তার সমস্যা হয় নিজেই বলেছিল। সেজন্য মেসিকে জায়গা করে দিতে দিবালাকে বসিয়ে রাখতে হয়েছিল সাম্পাওলিকে।  বদলি হিসেবেও মাঠে নামারও সুযোগ হয়নি তাঁর। দিবালা কি বোকা জুনিয়র্সের ফরোয়ার্ড দারিও বেনদেত্তোর চেয়ে খারাপ খেলেন যে পুরো সময় বেঞ্চে কাটাতে হলো?

ম্যাচের পর দিবালা বলেছেন, ‘মেসির সঙ্গে খেলা সহজ নয়, কারণ আমরা দুজন একই ধাঁচে খেলি।’ এই মন্তব্যের পরই চটেছেন আর্জেন্টাইন-সমর্থকেরা। দিবালার মন্তব্যকে প্রিয় তারকার প্রতি অপমান হিসেবে ধরে নিয়ে বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তিরস্কারের মুখে পড়েন দিবালা। একে তো দল বিশ্বকাপে যেতে পারছে না, তার ওপর এমন মন্তব্যে অনেকেই ড্রেসিংরুমে কোন্দলের আভাস পান।

তবে কুয়াশা দূর করেছেন কোচ হোর্হে সাম্পাওলি। এই বিতর্ক সামলাতে গিয়ে তিনি দিবালার পাশেই দাঁড়িয়েছেন, ‘আমি দিবালার মন্তব্যে খারাপ কোনো কিছু দেখছি না। সে বলেছে, সে মেসির পাশে খেলতে পেরে খুশি। সে স্রেফ দলে নিজের জায়গাটা খুঁজে পায়নি।’ পেরুর বিপক্ষে ম্যাচে হয়তো মাঠে নামতেন দিবালা। কিন্তু ফার্নান্দো গ্যাগোর চোটে হঠাৎ করেই পরিকল্পনা বদলাতে হয় সাম্পাওলিকে।

সাম্পাওলির মতে, এটি দিবালার অনুভূতির একধরনের বহিঃপ্রকাশ, ‘বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়ের পাশে খেলার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছে সে। লিওনেলের মতো অসাধারণ বুদ্ধিমান খেলোয়াড়ের পাশে নিজেকে মেলে ধরাটা খুবই কঠিন।’ তবে সামনের দিনগুলোতে মেসির পাশে দিবালাকে খেলতে দেখার সম্ভাবনাকে একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

দুই তারকার বিতর্ক ভুলে আর্জেন্টিনাকে পূর্ণ মনোযোগ দিতে হচ্ছে বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচ নিয়ে। ইকুয়েডরের মাঠে স্বাগতিকদের বিপক্ষে জিততেই হবে মেসিদের। অথচ ২০০১ সালের পর ইকুয়েডরের মাঠে কখনোই জেতেনি আর্জেন্টিনা। ১৬ বছরের পুরোনো ইকুয়েডর-ধাঁধার সমাধান করতে হলে দলের সবার সবটুকু মাঠে ঢেলে দিতে হবে। তাঁর আগেই মেসি-দিবালাকে একসঙ্গে খেলানোর ফর্মুলাটা খুঁজে নেওয়ার চেষ্টায় থাকবেন সাম্পাওলি।