ঢাকা সোমবার, অক্টোবর ১৪, ২০১৯

যে কারনে আর্জেন্টিনা হারলে খুশি আর্জেন্টিনারই মানুষ!

Spread the love

কারো পৌষ মাস, কারো সর্বনাশ! বিশ্বের সেরা ফুটবলারটিকে ছাড়াই বিশ্বকাপ ফুটবল মাঠে গড়ানোর শঙ্কা যখন ক্রমেই ঘোর বাস্তবে রূপ নিচ্ছে, তখন আর্জেন্টিনারই শতিনেক লোক আনন্দে বগল বাজাচ্ছেন। নোবেলেক্স নামের একটি টেলিভিশন কম্পানি ঘোষণা দিয়েছিল, আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়লে টিভির দাম ফেরত দেবে তারা। আগস্টের ২৪ থেকে ৩১, এই সময়ের ভেতর যারা ৫০ ইঞ্চি ফোর-কে টিভি কিনেছিলেন, এমন ৩০০ জনকে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে নোবেলেক্স।

সমীকরণটা এমন সর্বনাশা যে প্রতিপক্ষ ইতিহাস, ভূগোল, অঙ্ক সবই। বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনার শেষ ম্যাচ ইকুয়েডরের বিপক্ষে, যে দলের বিপক্ষে গত আসরের রানার্স-আপ আর্জেন্টিনা বাছাই পর্বের শুরুটাই করেছিল দেশের মাটিতে ২-০ গোলে হেরে। শেষ ম্যাচটা গিয়ে খেলতে হবে ইকুয়েডরের রাজধানী কিটোয়, যে শহরটা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৯৩৫০ ফুট ওপরে। যেখানে আকাশি-নীলদের সবশেষ জয়ের স্মৃতি ২০০১ সালে, কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে। ১৬ বছরের বেশি সময় আগে, ১৫ আগস্ট ২০০১ তারিখে ইকুয়েডরের মাঠে তাদের ২-০ গোলে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ১৯তম মিনিটে হুয়ান সেবাস্তিয়ান ভেরনের গোলের পর ৩৪তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করেছিলেন হার্নান ক্রেসপো। এরপর ২০০৬ ও ২০১০ সালের বিশ্বকাপ বাছাই, দুইবারই নিজমাঠে ইকুয়েডর আর্জেন্টিনাকে হারিয়েছে ২-০ গোলে। শুধু ২০১৪ বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে এসে কিছুটা উন্নতির ছোঁয়া, সেবার ১-১ গোলে ড্র।

সেই গোলটাও সের্হিও আগুয়েরো করেছিলেন পেনাল্টি থেকে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এতটা ওপরে, বাতাসে অক্সিজেনের অভাব আর ইউরোপে প্রায় স্থায়ী হয়ে যাওয়া লাতিন খেলোয়াড়দের সেখানে দ্রুত দম হারিয়ে ফেলায় সুবিধায় থাকে স্বাগতিকরাই। তাইতো পেরুর সঙ্গে ড্র করার পর বিশ্বকাপ স্বপ্ন ক্রমশ ধূসর হয়ে উঠছে আর্জেন্টিনার।
নোবেলেক্স ঘোষণাটা দিয়েছিল উরুগুয়ের সঙ্গে ম্যাচের আগে। এই অফারের ৩০০ টিভি বিক্রি হয়ে যায় এক সপ্তাহেই। পেরুর সঙ্গে হারের পর আরো সাত হাজার মানুষ নাকি নোবেলেক্সের ওয়েবসাইট ঘুরে গেছে টিভি কেনার জন্য, জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রধান। বোঝাই যাচ্ছে, দেশের মানুষের একটা বড় অংশও বিশ্বাস করছে না আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ খেলবে!