ঢাকা শনিবার, ডিসেম্বর ৭, ২০১৯

বাংলাদেশের সাথে বড় দলের পার্থক্য বুঝিয়ে দিল ইংল্যান্ড

Spread the love

এবারের বিশ্বকাপে দারুণ সম্ভাবনা নিয়েই গিয়েছিল বাংলাদেশ। র‍্যাংকিংয়ে ৭ম স্থানে থেকে বিশ্বকাপে যাওয়া বাংলাদেশের স্বপ্ন ছিল আকাশ ছোয়ার।

বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে আয়ারল্যান্ডের মাটিতে ত্রিদেশীয় সিরিজ জয় করে সেই স্বপ্নে আরেকটু হাওয়া লাগায় টাইগাররা। বিশ্বকাপেও প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে যেন রীতিমত আকাশে উড়ছিল তারা।

কিন্তু এরপর টানা দুই ম্যাচে হেরে আকাশ থেকে মাটিতে নেমে আসে দলটি। এই সময়ে নিউজিল্যান্ড এবং ইংল্যান্ডের কাছে হারে এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটি হয় পরিত্যক্ত।

শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে এরপর আফগানিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাতে পারলেও ভারত, পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে বিদায় নেয় টাইগাররা।

বিশ্বকাপে দারুণ পারফর্ম করেছিল সাকিব আল হাসান। কিন্তু তাকে সঙ্গ দেয়ার মত মুশফিক ছাড়া আর কোন ব্যাটসম্যানই ছিল না। আর বড় দলগুলোর সাথে যে এটাই বড় পার্থক্য বাংলাদেশের সেটা যেন চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে ইংল্যান্ড।

এই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড প্রমান করেছে বিশ্বকাপ জিততে চাইলে দল হয়েই জেতা লাগে। ২-১ জন ভালো করলে বড়জোর ২-১টা ম্যাচ জেতা যায়। কিন্তু কখনোই কোন টুর্নামেন্টের শিরোপা জেতা যায় না।

এই বিশ্বকাপে একমাত্র ইংল্যান্ডেরই ব্যাটিং এবং বোলিং বিভাগে ধারাবাহিক পারফর্মার ছিল বেশ কযেকজন। আর শেষ পর্যন্ত সেই পারফর্মারদের কল্যানেই শিরোপা জিতেছে দলটি।

ব্যাটিংয়ে শীর্ষ দশে ইংল্যান্ডেরই চার জন। এই চার জনের রানগুলো একটু দেখুন- জো রুট (৫৫৬), বেয়ারস্টো (৫৩২), বেন স্টোকস (৪৬৫), জেশন রয় (৪৪৩)।

এই চার জনের বাইরে মরগান করেছেন ৩৭১ রান। বাটলার করেছেন ৩১২ রান। দেখা গেল প্রতিটা ম্যাচেই ২-৩ জন করে দাড়িয়ে যাচ্ছে এবং ম্যাচ বেড় করে নিয়ে যাচ্ছে।

একই সাথে বোলিংয়েও ইংলিশরা ছিল ধারাবাহিক। আর্চার নিয়েছেন ২০ উইকেট, উড ১৮টি, ওকস ১৬টি, প্লাঙ্কেট ১১টি, আদিল রশিদ ১১টি উইকেট শিকার করল বিশ্বকাপে। অলরাউন্ডার ক্রিস ওকসও সঙ্গে ৭টি উইকেট নিয়ে সাহায্য করল বোলারদের।

বোলিং এবং ব্যাটিং বিভাগে যখন এমন ধারাবাহিক পারফর্মার থাকে তাহলে বিশ্বকাপ না জেতাটাই বরং সবচেয়ে বড় অঘটন হত।

আর এখানেই বাংলাদেশ সব থেকে পিছিয়ে পড়েছিল। বোলিংয়ে কেবল মুস্তাফিজ ২০টি উইকেট নিয়েছিল। সাইফ নিয়েছিল ১৩টি। সাকিব ১১টি। কিন্তু তাদের সঙ্গ দেয়ার জন্য আরও অন্তত ২-৩ জন বোলারকে এগিয়ে আসতে হত। সেটাই ছিল না বাংলাদেশের।

ব্যাটিংয়ে সাকিব আর মুশফিকই ছিল যা একটু ভরসার। বাকিরা কেউই ধারাবাহিক ছিল না। এক ম্যাচ ভালো করলে বাকি ম্যাচগুলোতে আর তাদের খুজেই পাওয়া যেত না। আর এখানেই মার খেয়ে গেছে টাইগাররা।