ঢাকা মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০২০

শুভ জন্মদিন স্ট্যামিনা বক্স-আরফিন শিশির

Spread the love

তাকে নিয়ে আলোচনা হয় খুব কমই। বলতে গেলে হয়ই না। মাদ্রিদের কোটি সমর্থকের প্রোফাইলে মড্রিচ, মার্সেলোর ছবি যেভাবে যত্নভরে টাঙ্গানো হয়। সেভাবে তার ছবিটা বড্ড কম লোকই রাখেন।

রামোসের চোয়ালভাঙ্গা আগ্রাসনের ভীড়ে তার খোঁজ করা মানুষ বড়জোর হাতে গোনা দুয়েকজন। কখনো টনি ক্রুসের পাসিং একুরেসির ভীড়ে তার ওভারল্যাপিং গুলো নিখোঁজ থেকে যায়।

তো কখনো করিম বেঞ্জেমার ব্যান্ডেজহাতা ছবির ভীড়ে তার ডেডিকেশন অন্তরালে হারিয়ে যায়। কেউবা তার নামের শুদ্ধ বানান খুঁজতে গুগলসার্চ করেন। কেউ কেউ তো আর্নাল্ড, কিমিচদের কেনার লক্ষ্যে তাকে বিক্রির প্রস্তাবও দেন।

তার নামটা শ্রদ্ধাভরে বড় গলায় উচ্চারিত হয়না। তার জার্সি কেনার জন্যে এডিডাস, নাইকিতে লম্বা লাইন জমে না।

দিনশেষে এক ঝাঁক তারকাময় একাদশে একজন দানি কার্ভাহাল লোকচক্ষুর আড়ালেই পড়ে থাকে। দিনশেষে আমরা ভুলে বসি সময়ের সেরা রাইট ব্যাক’টা এখনো রিয়াল স্কোয়াডের ড্রেসিংরুমের কোণায় বসে আছে।

একসময় সকালসন্ধ্যে মাদ্রিদের ইউথ একাডেমীর দুর্নাম হতো পুরো বিশ্বে। মাদ্রিদের পাইপলাইন নিয়ে হাসাহাসি করতো রাইভাল ক্লাব।

যদি কাড়িকাড়ি টাকা ঢেলে মাদ্রিদ প্রতিষ্ঠিত ফুটবলারই কিনবে। তাহলে ইউথ একাডেমীটা আছে কি করতে। এরকম একটা গুঞ্জন যখন গুতি পরবর্তী যুগে আরেকবার বাতাসে ভেসে আসে। তখন তাদের মুখে কুলুপ এঁটে দিয়েছিল এই ৫ ফুট আট ইঞ্চির বেটে মানুষটাই।

কখনো লা লীগা, কখনো চ্যাম্পিয়নস লীগ। হোম ম্যাচ হোক অথবা টাফেস্ট অপনেন্ট। যখনই ডাক পড়েছে। কার্ভাহাল নিজেকে শতভাগ উজাড় করে দিতে কার্পণ্য করেননি কোনদিন।

মাদ্রিদ একাদশে গ্যারেথ বেল এখন বলতে গেলে উপেক্ষিত প্রায়। তার উপর তার ইঞ্জুরিপ্রবণ পারফর্ম্যান্স।

রদ্রিগো নতুন এসেছে। এখনো নিজেকে মানিয়ে নিচ্ছে। অথচ তার পরেও রাইট সাইডটা সমান তালে এফোর্ট দিয়ে যাচ্ছে ম্যাচ বাই ম্যাচ। মিনিট বাই মিনিট।

কখনোই মনেই হয়নি কিছু একটার কমতি নিয়ে সিজনের পর সিজন পার করছে মাদ্রিদ। তার পুরোটাই এই বামুন মানুষটার কারসাজি।

বছর চারেক আগে, চ্যাম্পিয়নস লীগে বায়ার্নের বিপক্ষে এক ম্যাচে ফ্রাংক রিভেরিকে মার্ক করার দায়িত্ব পড়েছিল তার উপর। পুরো ম্যাচে রিভেরিকে এমন মার্কিং করেছিলেন কার্ভা, একসময় রিভেরি হতাশ হয়ে থাপ্পড়ই মেরে বসেছিলেন তাকে।

রিয়ালের বি টিম থেকে লেভারকুসেন হয়ে আনচেলেত্তি পেরিয়ে জিদান। রিয়ালের মূল টিমে একে একে কাটিয়ে ফেলেছেন ৬টি বসন্ত। বয়সের সংখ্যা বেড়েছে। পায়ের পেশিতে টান পড়েছে।

প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে যশোয়া কিমিচ, কাইরন ট্রিপিয়ার, আর্নাল্ডের মত ইয়ং প্রসফেক্ট। স্প্যানিশ ফুটবলে স্বদেশী রাবার্তো, এসপেলেকোয়েতা, আদ্রিওজোলা, হুয়ান ফ্রাংকের মত অসংখ্য ঘরোয়া প্রতিযোগী।

কিন্তু ডিফেন্সিভ, অফেন্সিভ দুই বিভাগেই আজো দানি কার্ভাহাল বিশ্বসেরা রাইট ব্যাকের যোগ্য দাবিদার। তার নামে হয়তো বড় আর্টিকেল হয়না। তাকে নিয়ে বাংলা ভাষায় নিউজ সার্চ বক্সে আধঘণ্টা খুঁজেও একটা ভাল মানের নিউজ পেলাম না।

প্রজন্ম তার গতিপথে চলবে। মাদ্রিদের একাদশে ভীড় জমাবে অসংখ্য প্রতিষ্ঠিত নাম। প্রোফাইল পিকচারে প্রতিদিন জায়গা করে নেবে করিম, ক্রুস, মার্সেলোরা। কিন্তু এসবের ভীড়ে পেছনের দরজা দিয়ে হারিয়ে যাবেন পর্দার আড়ালের এক আসল হিরো।

শুভ জন্মদিন দ্যা স্টামিনা বাক্স।
শুভ জন্মদিন দানি কার্ভাহাল।

লেখা: আরফিন শিশির