দেবীর অভিশাপে বিশ্বকাপ জিতেনা আর্জেন্টিনা

১৯৮৬ সালে সর্বশেষ বিশ্বকাপ জিতেছিল আর্জেন্টিনা। এরপর আর বিশ্বকাপের মুখ দেখেনি দলটি। সর্বশেষ ২০১৪ সালে ফাইনালে পৌছলেও শিরোপা জয় হয়নি তাদের। আর এর কারণ হিসেবে আর্জেন্টাইনরা বিশ্বস করেন এক ঘটনাকে।

তাদের বিশ্বাস হচ্ছে এক দেবীর অভিশাপে বিশ্বকাপ জিতে না আর্জেন্টিনা। সেই দেবীর নাম ‘ভার্জিন অব কোপাকাবানা।’

কেন তাদের এই ধারণা? এই ধারণার পেছনে আছে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের সময়টি। ১৯৮৬ সালের জানুয়ারি মাসে আর্জেন্টিনার উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে একটা ছোট্ট গ্রাম তিলকারাতে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শিবির করেছিলো কার্লোস বিলার্দোর দল। যে সময় পুরো গ্রামটিতে একটিমাত্র টেলিফোন ছিল। টেলিভিশন ছিলো না বললেই চলে।

ম্যাক্সিকোর কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্যই মূলত আন্দিজ পর্বতমালায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে আড়াই হাজার মিটার উচ্চতায় ওই গ্রামে শিবির করা হয়েছিল ম্যারাডোনাদের। সে গ্রামেই ছিলো এক চার্চ আর সেখানেই স্থাপিত ছিলো ‘ভার্জিন অব কোপাকাবানা’দেবী মূর্তি।

গ্রামের মানুষের বিশ্বাস ছিলো, ওই মূর্তির সামনে যদি কিছু মানত করা হয়, তা হলে তা পূরণ হয়। আবার কোনো প্রতিশ্রুতি দিলে, সেটিও রক্ষা করতে হয়। না হলেই বিপদ। আর এই বিশ্বাসেই বিশ্বাস রাখেননি বিলার্দো। তবে ৩২ বছর আগের সেই ঘটনা এখনো ভোলেননি সেই গ্রামবাসী। তাদেরই দাবি কখনোই শিরোপা জিততে পারবে না আর্জেন্টিনা।

আর্জেন্টিনার একটি ওয়েবসাইটে অতীতের সেই কাহিনি তুলে ধরেছেন ডেভিড গর্দিলো নামের সে গ্রামের এক বাসিন্দা। লিখেছেন, সে সময় ২৫ বছর বয়স ছিল গর্দিলোর। আর্জেন্টিনার সেই দলের সঙ্গে অনুশীলনও করেছেন তিনি। গার্দিলোওই বিলার্দোকে মূর্তির কথা বলেছিলেন। তার কাছে মূর্তির ক্ষমতার কথা শুনে চার্চে যান বিলার্দো। প্রতিশ্রুতি দেন, কোনোভাবে বিশ্বকাপ জিততে পারলে তারা আবার তিলকারায় ফিরে দেবীকে ধন্যবাদ জানাবেন। কিন্তু আর্জেন্টিনা আর সেই গ্রামে ফেরেনি।

Related posts

Leave a Comment