যা হওয়ার হবে, নারিনকে দলে চাই

বর্তমানে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের হটকেক ওয়েস্ট ইন্ডিজের রহস্য স্পিনার সুনিল নারিন। ত্রিনিদাদ এন্ড টোবাগোর হয়ে খেলার মাধ্যমে নিজেকে বিশ্ব দরবারে পরিচিত করেছিলেন নারিন। পরে ২০১২ সালের আইপিএল থেকে এখনও পর্যন্ত খেলছেন কলকাতা নাইট রাইডার্সে। এক মৌসুমের জন্যও যাননি অন্য কোনো দলে।

শুরুতে তিনি ছিলেন শুধুই একজন স্পিনার। তাও যেনতেন স্পিনার নন, তার বোলিংয়ের রহস্য ধরতে পারতেন না বিশ্বের বাঘাবাঘা ব্যাটসম্যানরা। এখন সঙ্গে যোগ হয়েছে ব্যাটিং প্রতিভা। বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে ইনিংসের সূচনা করতে দেখা যায় তাকে। যার ফলে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের অন্যতম দামী ক্রিকেটারে পরিণত হয়েছেন নারিন।

তবে নারিন এতটা জনপ্রিয় হওয়ার আগেই তাকে চিনে ফেলেছিলেন কলকাতার সাবেক অধিনায়ক গৌতম গম্ভীর। ২০১১ সালে কলকাতার অধিনায়কত্ব পেয়ে, পরের বছরই নারিনকে দলে নেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন গম্ভীর। টিম ম্যানেজম্যান্টকে সাফ জানিয়ে দেন, যেকোন মূল্যে নারিনকে তার দলে চাই।

২০১২ সালের আইপিএলের নিলামের সময় গম্ভীর ছিলেন অস্ট্রেলিয়াতে। ফলে সরাসরি থাকতে পারেননি নিলাম অনুষ্ঠানে। তাই ফোন করে নারিনকে নেয়ার ব্যাপারে তাগাদা দেন তিনি। এ কথা জানিয়েছেন কলকাতার তখনকার কোচিং প্যানেলের সদস্য, ভারতের সাবেক উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান বিজয় দাহিয়া।

তিনি বলেন, আমার এখনও মনে আছে, নিলামের আগে সে (গম্ভীর) ছিল অস্ট্রেলিয়াতে। কারণ তখন ভারতীয় দল সেখানে সফররত ছিল। সে তখন ফোন করে এবং বলে, যা খুশি হোক, আমি নারিনকে আমার দলে চাই। আসলে যেকোনো দলের জন্য এমন নেতাই প্রয়োজন।

গম্ভীরের এই সিদ্ধান্ত যে পুরোপুরি সঠিক ছিল, তা এরই মধ্যে প্রমাণ করেছেন নারিন। এখনও পর্যন্ত কলকাতার হয়ে খেলেছেন ১১০ ম্যাচ, বল হাতে শিকার ১২২ উইকেট, ব্যাট হাতে করেছেন ১৭০ স্ট্রাইকরেটে ৭৭১ রান। বোলিংয়ে রান খরচ গড়ে ওভারপ্রতি সাড়ে ছয়ের একটু বেশি।

এখনও পর্যন্ত ২০১২ ও ২০১৪ সালের আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কলকাতা। এ দুই শিরোপার অন্যতম কারিগর ছিলেন নারিন। ২০১২ সালে তার প্রথম আসরে ১৫ ম্যাচে ২৪ উইকেট নিয়ে হয়েছিলেন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হয়েছিলেন নারিন। ২০১৪ সালের আসরে ১৬ ম্যাচে নিয়েছিলেন ২১টি উইকেট।

Related posts

Leave a Comment