কি শাস্তি হবে সাকিবের

বাংলাদেশ ক্রিকেটে সাকিব আল হাসান ছিল আজকের আলোচিত বিষয়। আবাহনী এবং মোহামেডানের মধ্যকার ম্যাচে সাকিব আল হাসান যে কান্ড করেছেন তার জন্য বড় শাস্তির মুখে পরতে হতে পারে তাকে।

পঞ্চম ওভারে বল হাতে তুলে নেন সাকিব আল হাসান। মোহামেডানের তখন ৩ উইকেটে ২১ রান। ওভারের শেষ বলটিই আঘাত হানে আবাহনী অধিনায়ক মুশফিকুর রহীমের প্যাডে। সাকিব এলবিডব্লিউয়ের আবেদন করেন, কিন্তু আম্পায়ার ইমরান পারভেজ রিপন তাতে অনড়।

আম্পায়ার আউট না-ই দিতে পারেন, তার সেই এখতিয়ার আছে। কিন্তু সাকিব এরপর যে কাণ্ড ঘটান, তাতে সবাই হতবাক। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট মোহামেডান অধিনায়ক রাগে-ক্ষোভে উইকেটে লাথি মেরে ননস্ট্রাইকের স্ট্যাম্প উপড়ে ফেলেন।

শুধু স্ট্যাম্প ভেঙেই ক্ষান্ত হননি সাকিব। আম্পায়ারের দিকে রাগত স্বরে তাকিয়ে কিছু বলতে দেখা যায় বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারকে। রীতিমত মাঠে দায়িত্বরত আম্পায়ারকে চোখ রাঙাচ্ছিলেন।

এ তো গেল আউটের ঘটনা। এরপর আরও এক কাণ্ড ঘটিয়েছেন সাকিব। ষষ্ঠ ওভারের পাঁচ বল হওয়ার পর বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধের ডাক দেন আম্পায়ার। সেই সিদ্ধান্তও মনঃপুত হয়নি মোহামেডান অধিনায়কের।

মিড-অন থেকে দৌড়ে এসে তিনটি স্ট্যাম্প তুলে মাটিতে আছাড় মেরে বসেন সাকিব। ভাবভঙ্গিমায় মনে হচ্ছিল, খেলা বন্ধ হওয়ার সিদ্ধান্তও মানতে পারছেন না।

আম্পায়াররা যখন খেলা বন্ধ করেছেন, বৃষ্টি তখনও এক ফোঁটা পড়েনি। তবে আকাশ মেঘে কালো হয়ে ছিল। বৃষ্টি শুরু না হওয়াতেই খেলা বন্ধ কেন? সাকিব বোধ হয় সেটাই মেনে নিতে পারেননি।

ম্যাচ শেষে বিসিবি কার্যালয়ের সামনে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে আলাপে সিসিডিএম চেয়ারম্যান কাজী ইনাম বলেছেন, খেলার মাঠে অনেক কিছুই হয়। আজকে আবাহনী-মোহামেডানের ম্যাচ ছিল। সেখানে আমরা অনেক উত্তেজনা দেখলাম। সাকিব আল হাসানকে ঘিরে কিছু ঘটনা আমরা দেখেছি। এটা ফেসবুক লাইভ, ইউটিউব থেকেও সবাই দেখতে পেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টা দুঃখজনক। ক্রিকেট এমন একটা খেলা, যেখানে এমন উত্তেজনাপূর্ণ সময় এসে যেতে পারে। তবে আমরা আশা করব খেলোয়াড়রা তাদের আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখবে। এই খেলাটি আইসিসি স্বীকৃত ম্যাচ। এসব বিষয় নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ম্যাচ রেফারি, আম্পায়াররা আছেন। তারা একটা রিপোর্ট দেবেন। সবকিছুরই নিয়ম আছে। কোন নিয়ম ভাঙলে কী শাস্তি, সে অনুযায়ীই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সেই শাস্তির মাত্রা কেমন হতে পারে? এমন প্রশ্নের জবাবে বিশেষ কিছু বলতে পারেননি ইনাম। তিনি বলেছেন, শাস্তি কেমন হবে সেটা রিপোর্টের ওপর নির্ভর করছে। তারা যা বলবে, সেভাবেই সিদ্ধান্ত হবে।

Related posts

Leave a Comment