খেলোয়াড়রা একা নয়, অনেক দোষ নির্বাচকদেরও

বলে বলে চার ছক্কা মারার জন্য একটা প্লেয়ারকে ওপেনিং থেকে নামিয়ে দিলেন সাত নম্বরে। আপনার চাহিদা হচ্ছে তাকে আপনি ফিনিশার বানাতে চান। শেষ দিকে দ্রুত রান তোলার জন্য আপনি তার পাওয়ার হিটিং কাজে লাগাতে চান।

আর সেই প্লেয়ারটিকে আপনি টেস্টে নামিয়ে দিচ্ছেন কোন যুক্তিতে? নাকি টেস্টেও আপনি তার থেকে ওই রকম পাওয়ারফুল ব্যাটিং প্রত্যাশা করেন?

বলা হচ্ছে সৌম্য সরকারের কথা। একটা প্লেয়ার যিনি স্টাইলিশ ব্যাটিং করতে অভ্যস্ত এবং তান্ডব চালানোটাই যার পছন্দ তাকে কোন যুক্তিতে টেস্ট খেলতে নামিয়ে দেয়া হচ্ছে?

সাদমান ওপেনিংয়ে অটো চয়েজ। দ্বিতীয় ম্যাচে যখন তাকে পাওয়া যাচ্ছেনা তখন বিকল্প হিসেবে সাইফ হাসান ছিল। কিন্তু নির্বাচকরা গেল সৌম্যর দিকে। ফলাফল দুই ম্যাচেই ব্যর্থ।

নাজমুল হোসেন শান্তকে জাতীয় দলে যতগুলো ম্যাচেই সুযোগ দেয়া হয়েছে প্রত্যেকটা ম্যাচেই সে ব্যর্থ ছিল। এই সিরিজে তো তিনি কেবল সেই ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছিলেন। কিন্তু আপনি সেই ব্যাটসম্যানের উপর এতটাই ভরসা করেছেন যে সাকিবের পজিশন তাকে দিয়ে দিলেন। এই সিরিজের প্রত্যেকটা ম্যাচেই সে ব্যর্থ ছিল।

যদি তরুণদেরই সুযোগ দিতে হত তাহলে সুযোগ দেয়া যেত আকবর আলীকে। ঠান্ডা মাথার খুনি বলতে যা বুঝায় সেটাই হচ্ছে আকবর আলী। কিন্তু তাকে সুযোগ দিচ্ছেনা বাংলাদেশের নির্বাচকরা।

মুমিনুল হক বাংলাদেশের টেস্টের জন্য অসাধারণ একজন ব্যাটসম্যান। কিন্তু অসাধারণ ব্যাটসম্যান হলেই কি অসাধারণ অধিনায়ক হওয়া যায়? তার অধিনায়কত্বে যে অনেক উন্নতি প্রয়োজন সেটা বুঝা গেছে এই সিরিজেই।

তাছাড়া সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে- বাংলাদেশের যে প্লেয়াররা ওয়ানডে বা টি-টুয়েন্টি খেলেন, সেই একই প্লেয়াররা খেলেন টেস্ট ম্যাচ। আর এখানেই দেখা যাচ্ছে প্লেয়াররাও নিজেদের মানিয়ে নিতে পারছে না।

অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ডের মত দলগুলোকে দেখা যায় ভিন্ন ভিন্ন স্কোয়াড নিয়ে মাঠে নামতে। তাদের হয়তো ৪/৫ জন ক্রিকেটার সব স্কোয়াডে থাকেন। বাকিরা সবাই নির্দিস্ট ফরম্যাট খেলেন এবং সেজন্যই তারা এত উন্নতি করছে।

Related posts

Leave a Comment