শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে বার্সাকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়াল

ফুটবল প্রেমীরা যেমনটা চায়, ঠিক তেমনি উত্তেজনায় ঠাসা এক ম্যাচ উপহার দিল রিয়াল মাদ্রিদ এবং বার্সালোনা। উত্তেজনায় ভরপুর এবং শ্বাসরুদ্ধকর এই ম্যাচে বার্সালোনাকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে গেছে রিয়াল মাদ্রিদ।

কি ছিল না এই ম্যাচে? এমনিতেই এল ক্লাসিকো মানেই অন্যরকম উত্তেজনা। তারমধ্যে এই ম্যাচটি যেন আবার ছিল চলতি মৌসুমে বার্সালোনার অন্যতম সেরা ম্যাচ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের মাঠ ছাড়তে হয় হেরেই।

জাভির অধিনে ধীরে ধীরে উন্নতি করছে বার্সালোনা সেটার প্রমান এই ম্যাচেই দিয়েছে তারা। সাম্প্রতিক সময়ে অন্যান্য এল ক্লাসিকোতে যেভাবে একতরফা আধিপত্য ছিল রিয়ালের, এই ম্যাচে ছিল না তেমনটা। রিয়ালের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে পুরোটা সময় আক্রমন করে গেছে বার্সালোনা।

ম্যাচে তিনবারই এগিয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। প্রথমে এগিয়ে যাওয়ার পর সমতায় ফেরে বার্সা। আবার এগিয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ এবং আবার সমতায় ফেরে বার্সা। তবে তৃতীয়বারে রিয়াল এগিয়ে যাওয়ার পর আর সমতায় ফেরা হয়নি কাতালান ক্লাবটির।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমন আর পাল্টা আক্রমনে জমে উঠে ম্যাচ। দুই দলই বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করে। তবে রিয়াল মাদ্রিদ শুরুতে একটু বেশি সুযোগ তৈরি করে।

তেমনি একটি সুযোগ থেকে ম্যাচের ২৫ মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করে রিয়াল মাদ্রিদকে এগিয়ে দেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। করিম বেনজামার পাস থেকে দুর্দান্ত ফিনিশিং দক্ষতায় গোলটি করেন ভিনিসিয়াস।

গোল খেয়ে গোল শোধে মরিয়া হয়ে উঠে বার্সালোনা। একের পর এক আক্রমন করতে থাকে তারা। কয়েকটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে রিয়াল মাদ্রিদ গোলকিপার কর্তোয়া।

কিন্তু ম্যাচের ৪১ মিনিটে বার্সালোনাকে গোল গিফট করে রিয়াল মাদ্রিদ ডিফেন্ডার এডার মিলিটাও। নিরীহ একটি বল বাঁচাতে গিয়ে আলতো শট মারেন তিনি। সেটা এগিয়ে আসা লুক ডি জং এর পায়ে লেগে বারপোস্টে লেগে দিক পরিবর্তন হয়ে জালে প্রবেশ করলে সমতায় বার্সালোনা।

বিরতির পর দুটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে বার্সা। তোরেসের পরিবর্তে মাঠে নামেন এজালজুলি এবং ডি জং এর পরিবর্তে মাঠে নামেন পেড্রি। বদলি হয়ে নামা পেড্রি প্রথম মিনিটেই গোল পেতে পারতেন। তার বুলেট গতির শট বারপোস্টের বাইরে দিয়ে গেলে বেঁচে যায় রিয়াল।

এরপর মিনিট দশেক সময় পুরোটাই রিয়াল মাদ্রিদের উপর চাপ অব্যাহত রাখে বার্সালোনা। কিন্তু সুযোগ তৈরি করলেও গোল আদায় করতে পারেনি তারা।

ম্যাচের ৬১ মিনিটে সুযোগ আসে রিয়ালের সামনে। কিন্তু কার্বাহালের ক্রসে মাথা ছোয়ানোর কেউ জায়গা মত না থাকায় গোল পাওয়া হয়নি রিয়ালের।

৬৯ মিনিটে আরও একবার হতে হয় রিয়াল মাদ্রিদ ও বেনজামাকে। রোদ্রিগোর অ্যাসিস্ট থেকে বল পেয়ে যান বেনজামা। বার্সালোনার দুজন প্লেয়ারকে বোকা বানিয়ে বেনজামার নেয়া শট স্টেগানকে পরাস্ত করলেও বারপোস্টে প্রতিহত হলে লিড নেয়া থেকে বঞ্চিত হয় রিয়াল মাদ্রিদ।

ম্যাচের ৭১ মিনিটে আর বেনজামাকে হতাশ হতে হয়নি। প্রথমে মেন্ডির বাড়ানো বলে শট নেন বেনজামা। তার শট আটকে দেন স্টেগান। ঝাঁপিয়ে পরে শট আটকালেও নিয়ন্ত্রনে নিতে পারেননি বার্সা গোলকিপার। ফিরতি বলে শট নেন দানি কার্বাহাল। সেই বল পা দিয়ে আটকে দেন। কিন্তু বল চলে যায় বেনজামার কাছে। ফরাসি তারকার শট কোন বাধা ছাড়াই চলে যায় জালে।

ম্যাচের ৮৩ মিনিটে ফের সমতায় ফেরে বার্সালোনা। বদলি হয়ে নামা তরুণ স্ট্রাইকার আনসু ফাতি গোল করে সমতায় ফেরান বার্সাকে। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে হেডে গোলটি করেন তিনি।

এই গোলের পর রিয়ালের উপর প্রচুর চাপ তৈরি করে বার্সালোনা এবং সহজ সুযোগও আসে। কিন্তু সেই সুযোগ আর কাজে লাগানো হয়নি তাদের। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর কোন দল গোল করতে না পারলে নির্ধারিত সময়ে ম্যাচটি সমতা থাকে ২-২ গোলে।

নির্ধারিত সময় ২-২ গোলে সমতা থাকার পর খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে শুরুতেই গোল করে রিয়ালকে ফের এগিয়ে দেন ফেডরিকো ভালভার্দে। রোদ্রিগোর অ্যাসিস্ট থেকে গোল করে রিয়ালের লিড এনে দেন তিনি।

৩ মিনিট পর সমতায় ফেরার সুযোগ আসে বার্সার সামনে। তবে বুসকেটসের নেয়া শট ঝাঁপিয়ে পরে রক্ষা করেন কর্তোয়া। ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে সহজ গোলের সুযোগ মিস করেন রোদ্রিগো। ফাকা পোস্টে কোন ঝামেলা ছাড়াই বল পাঠাতে পারতেন তিনি। কিন্তু সেই বল তিনি পাঠান পোস্টের বাইরে। শেষ পর্যন্ত আর কোন দল গোল করতে না পারলে রিয়াল মাদ্রিদ ৩-২ গোলের জয় পায় ম্যাচে এবং উঠে যায় সুপার কাপের সেমিফাইনালে।

Related posts