কৌশল মাষ্টার জিদান

রিয়াল মাদ্রিদকে হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতানোর পর হঠাৎ করেই চাকরি ছেড়ে দেন জিনেদিন জিদান। এরপর রিয়াল মাদ্রিদ দুজনকে কোচ নিয়োগ করে ওই একই মৌসুমে। কিন্তু কেউই স্থায়ী হতে পারেনি। প্রথমে লোপেতেগুই এবং পরে সোলারিকে নিয়োগ এবং বরখাস্ত করে ফের জিদানের হাতেই তুলে দেয়া হয় মাদ্রিদের দায়িত্ব।

সেই দায়িত্ব পেয়েই এই মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদকে ফের কক্ষপথে ফেরান জিদান। স্প্যানিশ লা লিগার শিরোপা এখন তাদের প্রায় হাতের মুঠোয়।

মৌসুমে বাকি আছে আর মাত্র দুটি ম্যাচ। এই দুটি ম্যাচের যেকোন একটি ম্যাচে জিতলে কিংবা দুটো ম্যাচে ড্র করলেই শিরোপা তাদের।

রিয়াল মাদ্রিদের এই জয়ের ব্যাপারে সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব দিতে হবে জিদানকেই। তার কৌশলের কাছেই যে বার বার পরাস্ত হয়েছে প্রতিপক্ষ দলগুলো।

জায়ান্ট বার্সালোনা কিংবা অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ-কেউই পারেনি মাদ্রিদের বিপক্ষে জয় নিয়ে ফিরতে। জিনেদিন জিদানের কৌশল এমনই যে প্রতিপক্ষ কোচের রিয়ালের স্কোয়াডের প্রত্যেকটা খেলোয়াড়কে নিয়ে ভাবতে হয়েছে।

এই ম্যাচে একরকম একাদশ তো পরের ম্যাচেই একাদশে পরিবর্তন। তার পরের ম্যাচে আরও একবার একাদশে পরিবর্তন। এভাবেই পরিবর্তের পর পরিবর্তন চলতে থাকে একাদশে। কখনো একাদশে ৫ মিডফিল্ডার, কখনো চার আক্রমন ভাগের তারকা নিয়েই মাঠে। কখনো বা ৪-৩-৩ ফর্মেশন, কখনো আবার চলে আসেন ৩-৫-১ ফর্মেশন।

প্রতিপক্ষের কোচ তো দূরের কথা, জিদানের ম্যাচের একাদশে কে থাকবে সেটা খোদ রিয়ালের খেলোয়াড়রাই জানতে পারেন ম্যাচের আগে। সেজন্য দেখা যায় রিয়ালের স্কোয়াডের সব তারকার প্রস্তুতিই এমন থাকে যেন আগামীকাল সেই মাঠে থাকবে একাদশে।

এতে করে প্রত্যেকটা খেলোয়াড় একাদশে থাকার জন্য প্রস্তুত থাকে। তাদের মানসিকতা ওই রকম থাকে। আবার প্রতিপক্ষের কোচের পরিকল্পনায় জল ঢালাও হয়ে যায়।

জিনেদিন জিদানের এমন কৌশল যেমন প্রতিপক্ষ কোচদের মাথা ব্যাথা বাড়িয়েছে, তেমনি নিজ দলের খেলোয়াড়দেরও দিচ্ছে পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ। আর এটাই মৌসুম জুড়ে কার্যকর ছিল যার প্রমান হিসেবে এখন আসছে লা লিগার শিরোপা।

Related posts

Leave a Comment