ডিফেন্স আর মিডফিল্ড দিয়ে লিগ জিতে গেল রিয়াল

রিয়াল মাদ্রিদের চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলদাতা খেলোয়াড় হচ্ছেন করিম বেনজামা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোল করেছেন সার্জিও রামোস। বেনজামা স্ট্রাইকার হলেও রামোস একজন ডিফেন্ডার। আর এভাবেই দলের উপর থেকে নিচ পর্যন্ত তারকাদের দুর্দান্ত নৈপুন্যে লা লিগা জিতেনিল রিয়াল মাদ্রিদ।

২০১৮ সালে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে চলে যান। মৌসুমে ৪০ গোলের নিশ্চয়তা দেয়া একটা প্লেয়ার যখন কোন দল ছেড়ে চলে যায় তখন তার অভাব পূরণ করাটা সহজ হয় না।

সেটা হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদের ক্ষেত্রেও। রোনালদো চলে যাওয়ার তার স্থানে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে সেটা আজও পূরণ করতে পারেনি রিয়াল মাদ্রিদ।

কিন্তু তাতে কি? এক রোনালদোর জন্য তো আর রিয়াল মাদ্রিদ থেমে থাকবে না। থেমে থাকেও নি। কারণ তাদের রোনালদো না থাকলেও ছিল জিদান।

রোনালদোর সঙ্গে সঙ্গে জিদানও রিয়াল ছেড়েছিল। কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদ আর জিদানের ছাড়াছাড়ি বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। আবার জিদানকে নিয়ে আসেন পেরেজ। আর জিদান এসেই দল গঠনে মনোযোগ দেন।

কয়েকটি পজিশনে খেলোয়াড় আনেন এবং ছাড়েন। দলে আসে মিডফিল্ডার ভালভার্দে, লেফব্যাক মেন্ডি, উইঙ্গার হ্যাজার্ড, তরুণ রোগ্রিগোরা। কিন্তু রোনালদোর রিপ্লেস কেনার প্রয়োজন মনে করেননি তিনি কিংবা দলে কোন কিলার স্ট্রাইকারও আসেনি জিদান।

অথচ এই তারকাদের দিয়েই স্প্যানিশ লা লিগার শিরোপা জিতে নিল রিয়াল মাদ্রিদ। মৌসুমের শুরুতেও যারা এটা কল্পনাও করতে পারেনি সেটাই করে দেখালেন জিদান। স্ট্রাইকার নয়, জিদানের মূল অস্ত্র ছিল মিডফিল্ড এবং ডিফেন্স। পেছনের দুই সারির খেলোয়াড়দের অতিমানবীয় পারফর্মেন্সের কল্যানেই লা লিগা শিরোপা জিতে নিল জিদানের রিয়াল।

এবারের মৌসুমে রিয়ালের ২১জন খেলোয়াড় গোল করেছে। স্কোয়াডের ২১ জন গোল করেছে-এই পরিসংখ্যানই বলে দেয় জিদানের রিয়াল মাদ্রিদ কতটা একতাবদ্ধ ছিল পুরো মৌসুমজুড়ে।

জিদান বুঝিয়ে দিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো তার দাবার অসংখ্য গুটির মধ্যে মন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু সেই মন্ত্রী ছাড়াও বাজিমাত করতে তার সমস্যা হয় না।

Related posts

Leave a Comment