আশা রিয়ালের, আশা ব্রাজিলের

ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি লিজেন্ডদের জন্ম হয়েছে ব্রাজিলে। তাদের স্কিলে মুগ্ধ হয়েছে সারা বিশ্বের কোটি কোটি ভক্ত। পাঁচবার বিশ্বকাপ জিতেছে দলটি যা ফুটবল ইতিহাসে যেকোন দলের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বর্তমান ফুটবলে দাপট ইউরোপিয়ানদের। ল্যাতিন আমেরিকার দল বিশেষ করে শিরোপার সম্ভাবনাময়ী দল ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা দুটি দলই শেষ কয়েকটি বিশ্বকাপে ইউরোপিয়ান দলগুলোর কাছেই হেরেছিল। কিন্তু একটা সময় ছিল যখন ব্রাজিলিয়ানদের সাম্বার ছন্দের সঙ্গে তাল মেলানোটাই কষ্টের ছিল ইউরোপিয়ানদের।

সবচেয়ে মজার বিষয় হল এই পাঁচবার যে বিশ্বকাপ জিতেছে তারা তাতে সবচেয়ে বেশি অবদান ছিল ব্রাজিলিয়ান লিগে খেলা প্লেয়ারদেরই।

ব্রাজিলিয়ান তারকা পেলেকে জাতীয় সম্পদ ঘোষণা করেছিল ব্রাজিল সরকার। তাকে তখন ইউরোপের বড় বড় দলগুলো কিনতে চাইলেও ব্রাজিল সরকার দেয়নি। সেই সময় পেলের সঙ্গে সঙ্গে গারিঞ্চা, সক্রেটিসর, ভাভারাও খেলতেন ব্রাজিলিয়ান লিগেই। ইউরোপের বড় দলগুলো তাদের কেনার জন্য অনেক চেষ্টা করেও আনতে পারেনি।

আর এই না আসাটাই হয়তো ভালো ছিল তাদের জন্য। হয়তো ব্যক্তিগত ভাবে খেলা হয়নি তাদের চ্যাম্পিয়নস লিগ। কিন্তু সবচেয়ে বড় মানদন্ড বিশ্বকাপ ঠিকই তারা জিতেছে

১৯৫৮ সালে ব্রাজিল প্রথম বিশ্বকাপ জিতেছে। পরের আসরেই দ্বিতীয় শিরোপা। ১৯৭০ সালে তৃতীয় শিরোপা। মজার ব্যাপার হচ্ছে এই তিনটা বিশ্বকাপে যেসকল ব্রাজিলিয়ান তারকারা খেলেছিল তারা প্রত্যেকেই ব্রাজিলিয়ান লিগে খেলেছে।

এখানেই শেষ নয়, ব্রাজিল তাদের ইতিহাসে বিশ্বকাপ জিতেছে ৫বার। সব মিলিয়ে ব্রাজিলের মোট ১১১ জন ফুটবলার বিশ্বকাপ জিতেছে। এই ১১১ জন তারকার মধ্যে ৯০ জনই ইউরোপে আসেনি।

বিশ্বকাপ জয়ী ব্রাজিলের যে ২১ জন তারকা ইউরোপে খেলেছে তাদের মধ্যে ১৯৯৪ সালে ছিল ১১ জন এবং ২০০২ সালে ছিল ১০ জন।

ব্রাজিলের সেই সময়টা এখন আর নেই। এখন দল সাঁজানো হয় মূলত ইউরোপিয়ান লিগে খেলা তারকাদের দিয়েই। ইউরোপের বড় বড় লিগে যদি একই দলের একাধিক খেলোয়াড় থাকে সেটা অবশ্যই আনন্দের খবর জাতীয় দলের জন্য।

এই সম্ভাবনাটাই হয়তো ব্রাজিলে হতে পারে আগামী বিশ্বকাপের পর। আক্রমন ভাগে তখন থাকতে পারেন ভিনিসিয়াস, রেনিয়ের জেসুস এবং রোদ্রিগো। রিয়াল মাদ্রিদ এই তিনজন ব্রাজিলিয়ান তরুণকেই দলে নিয়ে এসেছে।

ভিনিসিয়াস এখনই রিয়ালের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। রোদ্রিগো এখনো সেভাবে নিজেকে মেলে ধরতে না পারলেও তিনিও প্রমান করেছেন হারিয়ে যেতে আসেননি রিয়ালে। রেনিয়ের জেসুস এখনো মূল দলে সুযোগ পায়নি। হয়তো তিনি আগামী মৌসুমে চলে যাচ্ছেন লোনে।

তবে তারা হচ্ছে মাদ্রিদের ভবিষ্যত। লোনে গেলেও যদি ভালো করে তাহলে একটা সময় অবশ্যই ফিরে আসবে। সেটা হয়তো ১ কিংবা ২ মৌসুম পর। যদি তারা নিজেদের যে সম্ভাবনার সমুদ্র রয়েছে তা পূরণ করতে পারে তাহলে নিশ্চিত ভাবেই বলা যায় তারা মাদ্রিদে বহু ইতিহাসের অংশ হতে যাচ্ছে। আর সেটা যদি হয় তাহলে জাতীয় দলে তাদের জুটিটাকে কাজে লাগাতে চাইবে যেকোন কোচই। হতে পারে সেটা বিশ্বকাপ জয়ের নিয়ামক।

Related posts

Leave a Comment