এরকম করলে বার্সাতে খেলোয়াড় আসতে চাইবে তো!

সাবেক বার্সালোনা ও মায়োর্কা ডিফেন্ডার সম্প্রতি একটা কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, আর্থার এবং বার্সার মধ্যে যা হলো তাতে কোন পক্ষেরই লাভ হয়নি। বিষয়টা আরেকটু ভালোভাবে দুই পক্ষই মিটিয়ে ফেলতে পারত।

আসলেও তাই। বার্সালোনা শেষ কিছু সময়ে আর্থারের সঙ্গে যে ব্যবহার করেছে সেটা ক্লাবের জন্য নেতিবাচক, ইতিবাচক নয়। এই ঘটনা থেকে অন্য যেকোন ফুটবলার শিক্ষা নিতে পারে।

স্প্যানিশ ক্লাব বার্সালোনা বর্তমান বিশ্বের সেরা ক্লাবগুলোর একটি এবং এই ক্লাবে খেলার স্বপ্ন দেখে হাজার হাজার ফুটবলার। সারা বিশ্বে কোটি কোটি ভক্তও রয়েছে তাদের। সেজন্য তাদের থেকে ওইরকম আচরণই প্রত্যাশা করে সবাই।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়েছেন। হয়তো সভাপতির উপর ক্ষোভ ছিল তাই চলে গেছেন। কিন্তু তাদের যাওয়ার পথটা সহজ ছিল। হ্যাজার্ড চেলসি ছেড়ে রিয়ালে এসেছিলেন। কোন ঝামেলা ছাড়াই এসেছিলেন। চেলসি তাকে রাখতে চাইলেও হ্যাজার্ড ইচ্ছা দেখায়নি। পরে দুই পক্ষ সমঝোতায় এসেছিল।

কিন্তু বিপরীতে সাম্প্রতিক সময়ে যেন নিজেদের সব ভালো ইমেজটা নষ্ট করে দিচ্ছে বার্সা। বার্তামেউ ক্ষমতায় আসার পর যেন চোরাই পথটাই তারা বেছে নিচ্ছে খেলোয়াড় কেনার জন্য যা ক্লাবের সঙ্গে অন্য ক্লাবের সম্পর্ক নষ্ট করছে।

এরসঙ্গে আবার প্লেয়ারদের বিরুদ্ধে মামলা করা যোগ হয়েছে বার্সার চরিত্রের মধ্যে। নেইমারের বিরুদ্ধে তারা মামলা করেছিল ক্লাব ছাড়ার কারণে। এবার মামলা করল আরেক ব্রাজিলিয়ান তারকা আর্থারের বিরুদ্ধে।

আর্থার এবং পিয়ানিচের মধ্যকার সোয়াপ ডিল ঘোষণার পর পিয়ানিচ জুভেন্টাস একাদশে নিয়মিত খেলেছে। কিন্তু আর্থার! তাকে খুঁজতে হয়েছে ম্যাচ চলার সময়ে গ্যালারীতে ঘুমানোর সময়।

ডিল ঘোষণার পরই ব্রাত্য হয়ে পড়েন আর্থার। কোচ সেতিয়েন তাকে বদলি করেও খেলাত না। স্বাভাবিক ভাবেই এতে করে যেকোন খেলোয়াড় বিব্রত বোধ করবে এবং বিশেষ করে যখন তার আরেক ক্লাবে যাওয়া নিশ্চিত মাত্র ১ মাস পরই।

আর্থার তাই বার্সাকে অনুরোধ করেছিল এক মাস আগেই যেন জুভেন্টাসে যেতে দেয়া হয় তাকে। কেননা এখানে তাকে খেলানো হচ্ছে না। বার্সা রাজি হয়নি। বার্সার রাজি না হওয়ার পেছনেও কারণ আছে। মিডফিল্ডে যদি কেউ ইনজুরিতে পড়ে তখন আর্থারকে প্রয়োজন হতে পারে।

কিন্তু এই বিষয়টাই মাত্র এক মাসের জন্য হলেও দুই পক্ষ সমঝোতায় আসতে পারলো না। এরমধ্যে আবার বার্সালোনা দিল মামলা করে। তাছাড়া আর্থার বার্সালোনা ছাড়তে না চাইলেও তাকে জোর করেই বার্সা ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। রাকিটিচ, দেম্বেলে, উমিতি, সেমেদো এদের কপালেও একই অবস্থা হতে পারে মৌসুম শেষে। এরকম চলতে থাকলে বার্সার ইমেজ কতটা ক্ষুন্ন হতে পারে প্লেয়ারদের কাছে সেটা হয়তো সময়ই বলে দিবে।

Related posts

Leave a Comment