জিদানরা এক মৌসুম বা এক ম্যাচের জন্য নয়

শুরুটা হয়েছিলো অপছন্দের একজন খেলোয়াড় হিসাবে। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে সৌদি আরবের একজন খেলোয়াড়কে লাথি মেরে লাল কার্ড দেখে যেদিন মাঠ ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন ঠিক সেদিনই আমি জিজু ‘কে চিনি। এরপর অবশ্য চারদিকের তার নেতৃত্বগুণ দেখে আমি তার ভক্ত হয়ে গিয়েছিলাম।

মাদ্রিদের যত মিডফিল্ডার দেখেছি তার মধ্যে জিজু ও ব্যাকহাম জুটি ছিলো আমার অনেক প্রিয়। ব্যাকহামের জ্যামিতিক পাস আর জিজুর উড়ন্ত অসাধারন গোল এখনও চোখে ভাসে।

জিনেদিন জিদান, জন্ম ২৩ শে জুন ১৯৭২ সাল। ডাক নাম “জিজু” ফ্রেঞ্চ সাবেক পেশাদার ফুটবলার এবং রিয়াল মাদ্রিদের বর্তমান ম্যানেজার। বহু ফুটবল ভক্তের কাছে জিদান সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় হিসাবে ব্যাপকভাবে পরিচিত। জিদান ছিলেন অভিজাত দৃষ্টি, বল নিয়ন্ত্রণ এবং কৌশলে পারদর্শী এবং খেলেছেন এটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে। জুভেন্তাস, রিয়াল মাদ্রিদে খেলে অনেক শিরোপা জিতেছিলেন তিনি।

২০০১ সালে ৭৭’৫ মিলিয়ন ডলারের বিশ্ব রেকর্ড ফি’তে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিয়েছিলেন, যা পরবর্তী আট বছর ধরে রেকর্ড হিসাবে ছিল। ২০০২ সালে জিদানের করা চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে বাম পায়ের ভলিতে করা গোলটাকে ইতিহাসের সেরা গোলের তালিকায় বিবেচনা করা হয়।

ম্যানেজার হিসাবে জিজুর অল্প ক্যারিয়ারে রয়েছে ঈর্ষনীয় অর্জন। যা অনেক লিজেন্ডারি কোচ পুরো ক্যারিয়ারে (জিজুর সমপরিমাণ) অর্জন করতে সক্ষম হননি! চার মৌসুমে ১১টি ট্রফি অর্জন কোচিং ক্যারিয়ারের তাকে সেরাদের কাতারে নিবে গেছে। বিশেষ করে রিয়াল মাদ্রিদে দ্বিতীয়বার এসে প্রমাণ করেছে দলে হ্যাভিওয়েট খেলোয়াড় থাকুক আর না থাকুক নিজস্ব বুদ্ধিই দলের সাফল্য অর্জনে যথেষ্ট।

একজন খেলোয়াড় হিসাবে জিজু বিশ্বকাপ ও ইউরো কাপ সহ মোট ১৫ টি ট্রফি অর্জন করেছে। পেয়েছেন ফিফা গোল্ডেন বল।

এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগে জিদানের বিদায় ঘটে গেছে। তবে একটি মাত্র ম্যাচ বা মৌসুম দিয়ে জিদানের বিচার করা সম্ভব নয়। কেননা জিদানরা এক মৌসুম বা এক ম্যাচের জন্য নয়।

লেখা: ইকরাম খালেদ

[স্পোর্টস প্রতিদিন দিচ্ছে আপনার লেখা প্রকাশের সুযোগ। যেকোন দল, খেলোয়াড় নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন লিখে পাঠাতে পারেন আমাদের কাছে।]

Related posts

Leave a Comment